# Tags

কুলিয়ারচরে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বিদায়ী ইউএনও’কে ফুলের তোড়া দিয়ে বিদায়ী সংবর্ধনা 

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ):

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বিদায়ী ইউএনও সাবিহা ফাতেমাতুজ্-জোহরা’কে উপজেলা সাংবাদিকদের একাংশের পক্ষ থেকে ফুলের তোড়া দিয়ে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

গত ২৮ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাবিহা ফাতেমাতুজ্-জোহরা’র হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তাঁকে বিদায়ী সংবর্ধনা জানিয়েছেন কুলিয়ারচর উপজেলার দৈনিক ইত্তেফাক প্রতিনিধি সিনিয়র সাংবাদিক মো. রফিক উদ্দিন, সমকাল প্রতিনিধি মোহাম্মদ হারুন চৌধুরী, প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাপ্তাহিক জনপদ সংবাদ প্রতিনিধি মোহাম্মদ মুছা, মানবজমিন প্রতিনিধি এডভোকেট মুহাম্মদ শাহ্ আলম, আমাদের সময় প্রতিনিধি মো. নাঈমুজ্জামান নাঈম, আমার সংবাদ প্রতিনিধি মো. আরীফুল ইসলাম, খোলা কাগজ প্রতিনিধি মোছা. শরীফুন নেছা শুভ্রা, দৈনিক মানবকণ্ঠ প্রতিনিধি ফারজানা আক্তার, আজকের বিজনেস বাংলাদেশ প্রতিনিধি মৌসুমী আক্তার, দৈনিক কালের সমাজ প্রতিনিধি মো. সবুজ মিয়া ও দৈনিক কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি মো. আজিজুল ইসলাম।

সাবিহা ফাতেমাতুজ্-জোহরা সরকারি আদেশে গত ১৩ আগস্ট যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলী হন। বদলীর আদেশের পর আগামী ২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার তিনি বর্তমান কর্মস্থল ত্যাগ করতে যাচ্ছেন এমন সংবাদ পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের একাংশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা ফাতেমাতুজ্-জোহরা’কে বিদায়ী সংবর্ধনা দেন।

এর আগে ওইদিন বিকালে উপজেলার ৬ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, প্রশাসক ও প্যানেল চেয়ারম্যানগণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ে গিয়ে তাদের প্রিয় ইউএনও’কে ক্রেস্ট দিয়ে সন্মানিত করে বিদায়ী শুভেচ্ছা বিনিময় করেন উপজেলার সালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কাইয়ুম, রামদী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা সমবায় অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম, গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা কামাল (কাজল), উছমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. লিটন মিয়া ও ফরিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মোবারক হোসেন।

এসময় সাথে ছিলেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক।

জুলাই আগষ্ট গণঅভ্যুত্থানের পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাবিহা ফাতেমাতুজ-জোহরা গত বছরের ১৯ আগস্ট কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)’র কার্যালয়ে  আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগদান করে দ্বায়িত্ব পালন শুরু করেন। কর্মস্থলে যোগদানের একবছর তাঁর সততা ও কর্মদক্ষতায় সাধারণ মানুষজন যেন নতুনভাবে ফিরে পেয়েছিলেন তাদের আস্থার ঠিকানা।

সাবিহা ফাতেমাতুজ্-জোহরা যোগদানের পর থেকে অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর কর্মদক্ষতা দিয়ে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা অর্জন করার পাশাপাশি এবং প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরসহ উপজেলার সার্বিকচিত্র পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুনত্ব ও গতিশীলতা ফিরিয়ে আনেন।

গণঅভ্যুতানের পর বিভিন্ন জেলা উপজেলাসহ বিভাগীয় শহরে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়ে প্রতিনিয়তই যেখানে দুর্নীতির অভিযোগ উঠে বিরূপ সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে অনেক কর্মকর্তাকেই। সেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা ফাতেমাতুজ্-জোহরা। তিনি একাধারে নির্বাহী অফিসারের দায়িত্বের পাশাপাশি, উপজেলা প্রশাসক, পৌর প্রশাসকসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালন করেছিলেন। কাজের বাড়তি চাপ থাকলেও তাঁর মানবিক আচরণ ও সুন্দর মনমানসিকতার জন্য একজন প্রশাসকের পরিবর্তে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিতি পেয়েছিলেন মানবিক মানুষ হিসেবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ সাধারণ মানুষেরর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে ছোট বড় সকল কাজগুলো নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে সমাধান করায় কুলিয়ারচরবাসীর আন্তরিক প্রশংসায় উদ্ভাসিত হয়েছিলেন প্রতিনিয়ত। তিনি আইনশৃংখলা পরিস্থতি, ভেজাল খাদ্য প্রতিরোধ ও দ্রব্যমুল্যের অতিরিক্ত দামসহ বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে নিয়মিত কাজ করে গেছেন। এছাড়াও দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা ও ভোগান্তি হিসেবে পরিচিত জন্ম নিবন্ধনের ভুল সংশোধন ও দ্রুত নিবন্ধন কার্যক্রমকে তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমিয়ে এনেছিলেন।

এলাকাবাসী বলেন, এর আগে সাবিহা ফাতেমাতুজ্-জোহরা’র মতো ভালো নির্বাহী অফিসার পাননি তারা। তিনি অত্যন্ত সৎ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা ও সর্বোপরি একজন ভালো মনের মানুষ ছিলেন।সাধারণ মানুষসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা যেকোন কাজে তার কাছে গেলে দ্রুতার সঙ্গে সমস্যা সমাধান করে দিতেন। তাঁর অমায়িক আচরণে কুলিয়ারচরের সকল শ্রেণির পেশার মানুষের মন জয় করে নিয়েছিলেন। তিনি সত্যিই একজন ভালো মনের মানুষ। তার কর্ম দক্ষতায় কুলিয়ারচরবাসী গর্ববোধ করেন। কেননা, ইতোমধ্যে তিনি কুলিয়ারচরবাসীর প্রিয় মানুষ হিসেবে বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন। তার ভালো কর্মের মাধ্যমে আরো বড় দায়িত্বে আসীন হবেন বলে কুলিয়ারচরবাসীর বিশ্বাস।কুলিয়ারচরবাসী বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা ফাতেমাতুজ্-জোহরা’র দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

উল্লেখ্য, সাবিহা ফাতেমাতুজ্- জোহরা কুলিয়ারচরে যোগদানের আগে বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মোহনপুরের ইউএনও হিসেবে যোগদানের পূর্বে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) উপ-পরিচালক (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) দক্ষতার সাথে তাঁর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ৩৪ তম ব্যাচ এর বিসিএস ক্যাডার (প্রশাসন) হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি নরসিংদী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) থেকে প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন শেষে তিনি তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন শুরু করেন।