# Tags

কাহারোলে বালাই নাশক ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসারের ঘুষ বাণিজ্য

আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি ॥ সরকারি ফি’র চেয়ে ২০ গুণ পর্যন্ত বেশি টাকা আদায়, লাইসেন্স নবায়নে হয়রানি, এমনকি দোকান বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ। দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা কৃষি দপ্তরের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মুক্তি চন্দ্র বিশ্বাস এর বিরুদ্ধে এমনই ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন স্থানীয় বালাই নাশক (কীটনাশক) ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের দাবি, উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই তিনি অবৈধভাবে উৎকোচ আদায়ের এক মহা উৎসবে মেতে উঠেছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কাহারোল উপজেলায় ২৬০টি বালাই নাশকের দোকান রয়েছে, যাদের প্রতি বছর লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। আর এই নবায়নের সুযোগকেই ‘‘স্বর্ণখচিত’’ করে তুলেছেন মুক্তি চন্দ্র বিশ্বাস।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, লাইসেন্স নবায়নের জন্য সরকারি নির্ধারিত ফি’র তোয়াক্কা না করে মুক্তি চন্দ্র বিশ্বাস কৌশলে একেকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সর্বনিম্ন ৪ হাজার থেকে শুরু করে ৬-৭ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে নিচ্ছেন। এটি সরকারি ফির চেয়ে প্রায় ২০ গুণ বেশি!

ভুক্তভোগী ভেন্ডাবাড়ি হাটের ব্যবসায়ী উজ্জল শর্মা দেব জানান, লাইসেন্স নবায়নের জন্য দীর্ঘদিন হয়রানির পর তাঁর কাছ থেকে ৩৩ শত টাকা নিয়েছেন এই কর্মকর্তা। ডাবর ইউনিয়নের বাশের হাটের দোকান মালিক নুর আলমকে অতিরিক্ত টাকা না দেওয়ায় একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ভেন্ডাবাড়ি হাটের আরেক ব্যবসায়ী মোঃ রিয়াজুল ইসলাম লাইসেন্স নবায়নে ৬ হাজার টাকা দিতে না পারায় বাধ্য হয়ে নিজের দোকানটিই বন্ধ করে দিয়েছেন।

শুধু কাহারোল নয়, ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন যে, ইতিপূর্বে ফুলবাড়িতে চাকরি করার সময়ও মুক্তি চন্দ্র বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সেসময় ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা তাঁর অপসারণের দাবিতে মানববন্ধনও করেছিলেন। বর্তমানে কাহারোলের ব্যবসায়ীরা ব্যবসা হারানোর ভয়ে মুখ খুলতে সাহস না পেলেও, তাঁরা অবিলম্বে মুক্তি চন্দ্র বিশ্বাসকে অপসারণ করে বদলী করার জোর দাবি জানিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ কাহারোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মল্লিকা রানী সেহানবীশ এর যোগসাজশে এমন দুর্নীতি করে চলেছেন মুক্তি চন্দ্র বিশ্বাস।

এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কাহারোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মল্লিকা রানী সেহানবীশ এর মন্তব্য হতবাক করার মতো। তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে যখন তাঁকে পত্রিকার খবরের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন তিনি প্রশ্ন তোলেন, পত্রিকার খবরের কি গুরুত্ব আচ্ছে? পত্রিকা যে সঠিক লিখেছে তার কী প্রমাণ আছে? অনেকের বিরুদ্ধে অনেক খবর হয় আর হওয়াটাই স্বাভাবিক।

বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মুক্তি চন্দ্র বিশ্বাস কোনো গণমাধ্যম কর্মীর সঙ্গে সাক্ষাত করতে রাজি হননি। বারবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁর দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হলেও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ‘‘টনক নড়েনি’’এই অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
কাহারোল এলাকাবাসীর প্রশ্ন? প্রকাশ্যে এত অভিযোগ, অতীতে মানববন্ধনের ইতিহাস এবং এতগুলো ব্যবসায়ীর জীবন-জীবিকা হারানোর শঙ্কা সত্ত্বেও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কেন নীরব? একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে বীর দর্পে এমন ‘উৎকোচের মহা উৎসব’ চালিয়ে যেতে পারেন?

কাহারোলে বালাই নাশক ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসারের ঘুষ বাণিজ্য

নাটোরে এবার সোনালী পাটের দুর্গা প্রতিমা