# Tags

বেতাগীতে বিকাশ ব্যবসায়ী নয়নের ওপর পৈশাচিক হামলার বিচারের দাবিতে  মানববন্ধন

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি:বরগুনার বেতাগী উপজেলার বিবিচিনি ইউনিয়নের ফুলতলা বাজারে বিকাশ ব্যবসায়ী নয়ন খানের ওপর অতর্কিত ও পৈশাচিক হামলার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী।

শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর, বিকেল ৫টায় ফুলতলা বাজারে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত মানুষ অংশ নিয়ে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এই ন্যক্কারজনক ঘটনা এলাকায় গভীর আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

মো. আবদুস সাত্তার শিকদারের সঞ্চালনায় এবং ফুলতলা বাজার কমিটির সভাপতি মো. মোশারফ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই মানববন্ধনে বিবিচিনি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিচুর রহমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. ফরিদ হোসেন হাওলাদার, ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান মো. রিয়াজ সিকদার, মাওলানা মো. আলাউদ্দিন, হাফেজ মো. আব্দুল হাই আজাদ, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন খান, জামাল খানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও মো. আবদুস সাত্তার শিকদার, মোহাম্মদ নূর হোসেন আকাশ ও মো. মনির হোসেন মুসুল্লী তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বক্তারা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, “গাঁজাখোরদের আস্তানা বিবিচিনিতে হবে না, চাঁদাবাজদের আস্তানা বিবিচিনিতে হবে না, গরুচোরদের আস্তানা বিবিচিনিতে হবে না। প্রয়োজনে সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ ধরনের অপরাধীচক্রকে প্রতিহত করবে।” তাঁরা প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় সাধারণ মানুষই অপরাধীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর, রাতে নয়ন খান (৩৫) বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা অতর্কিতভাবে তাঁর ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করে মৃত ভেবে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০ গজ দূরে একটি মাঠের মধ্যে ফেলে রেখে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নয়ন খানের মুখমণ্ডলে হাতুড়ি দিয়ে ১৩টি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া তাঁর মাথার পেছনে একটি ছুরির আঘাতে ১২টি সেলাই করতে হয়েছে। তাঁর বাঁ চোখেও মারাত্মক আঘাত লেগেছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহত নয়ন খান বিবিচিনি ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামের সারোয়ার হোসেন চান্দু আলীর ছেলে এবং ফুলতলা বাজারে দীর্ঘদিন ধরে বিকাশ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছেন। তিনি দুই সন্তানের জনক; তাঁর বড় ছেলে লাফিম ও ছোট ছেলে নুরাইন বাবার এমন পরিণতিতে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসী এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে নয়ন খানের ওপর হামলাকারী জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।