# Tags

ছয়সূতী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মানুষের মুখে মুখে আরশ মিয়ার নাম

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ):

আসন্ন স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচনকে ঘিরে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের ছবিসহ দোয়া কামনার পোষ্টার ও সমর্থকদের বিভিন্ন রকমের প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন সরগরম হয়ে উঠেছে। বাজারের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে গ্রামের পাড়ায় পাড়ায় চলছে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা।
ইতোমধ্যে, কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের দক্ষিণ কান্দিগ্রামের মৃত ফুল মিয়ার ছেলে কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্থানীয় দ্বাড়িয়াকান্দি-কান্দিগ্রাম বাসস্ট্যান্ড বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির সভাপতি মেসার্স নিউ সততা পোল্ট্রি ফিড এন্ড চিকস্ এর স্বত্বাধিকারী, বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর আলহাজ্ব মো. আরশ মিয়ার নাম এবার ছয়সূতী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের মুখে মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ইউনিয়নের সর্বমহলে সৎ, যোগ্য ও নীতিবান মানুষ হিসেবে তার নাম শুনা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের সক্রিয়তা, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই তিনি তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছেন। স্থানীয়দের মতে, “ঝড়-ঝঞ্ঝার মধ্যেও যে প্রদীপ নিভে না, রাজনীতির সেই আলোকবর্তিকা হচ্ছেন মো. আরশ মিয়া।”
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত মো. আরশ মিয়া নানা সামাজিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহচর হিসেবে পরিচিত এবং বিভিন্ন সময় দলীয় কার্যক্রমকে গতিশীল করতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের দেওয়া একাধিক মিথ্যা মামলার আসামী হয়ে একাধিকবার কারা বরণ করেছেন।
তিনি দীর্ঘ ১০ বছর ছয়সূতী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হিসেবে সৎ ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তার কর্ম দক্ষতায় সম্প্রতি তাকে কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করেন তার দলের নীতি নির্ধারকরা। এর আগে তাকে কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নির্বাচিত করা হয়। দীর্ঘদিন ছয়সূতী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য হিসেবেও দ্বায়িত্ব পালন করেন তিনি।
রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দেওয়া ছাড়াও তিনি কুলিয়ারচর উপজেলা পোল্ট্রি ডিলার এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন- দ্বাড়িয়াকান্দি-কান্দিগ্রাম বাসস্ট্যান্ড কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির, দক্ষিণ কান্দিগ্রাম বায়তুল ফালাহ্ জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির, কান্দিগ্রাম সেমাইকান্দি কবরস্থান পরিচালনা কমিটির, দ্বাড়িয়াকান্দি-কান্দিগ্রাম বাসস্ট্যান্ড হাফিজিয়া ফুরকানিয়া মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির ও সেমাইকান্দি জামিয়া রহমানিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির। এছাড়াও তিনি অসংখ্য মসজিদ, মাদ্রাসা ও সমাজসেবী প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা, উপদেষ্টা সদস্য হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করে চলছেন।
এছাড়াও, একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। করোনাকালীন সময় ও বিভিন্ন দুর্যোগ মুহূর্তে বিভিন্ন সহযোগিতার উদ্যোগ তাকে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে দিয়েছে।
বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থেকেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় দ্বাড়িয়াকান্দি-কান্দিগ্রাম বাসস্ট্যান্ড বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে একাধিকবার বিপুল ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার ঘটনায় তাকে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছে সাধারণ মানুষ। তার অনুসারীরা বলছেন, তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা আসন্ন ইউপি নির্বাচনে বড় শক্তি হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন ছয়সূতী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা রয়েছে ভোটারদের মাঝে। সেখানে মো. আরশ মিয়ার প্রার্থীতা একদিকে যেমন তরুণদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে, অন্যদিকে অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বগুণ তাকে একটি শক্ত অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
এ বিষয়ে আলহাজ্ব মো. আরশ মিয়া বলেন, “আমি রাজনীতি করি মানুষের জন্য। ছয়সূতী ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন পেলে আমি সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাবো।”
স্থানীয় ভোটারদের প্রত্যাশা- শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছাবে প্রতিটি ঘরে। আর সেই প্রত্যাশার প্রতীক হয়ে, নতুন দিনের সূর্যোদয়ের মতো এগিয়ে চলেছেন মো. আরশ মিয়া।