# Tags

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য লুকিয়ে রয়েছে বান্দারবান পার্বত্য জেলায়

ইকবাল হাসান,নড়াইল-প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য লুকিয়ে রয়েছে যে জেলায় সেটি নিঃসন্দেহে বলা যায় পাহাড়, পর্বত, মেঘ আর গাড় সবুজ বনের সমন্বয় সাধনে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা বান্দরবান পার্বত্য জেলাকে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়,বান্দরবান জেলার নামকরণ নিয়ে একটি কিংবদন্তি রয়েছে। এলাকার বাসিন্দাদের প্রচলিত রূপ কথায় আছে অত্র এলাকায় একসময় বাস করত অসংখ্য বানর । আর এই বানরগুলো শহরের প্রবেশ মুখে ছড়ার পাড়ে পাহাড়ে প্রতিনিয়ত লবণ খেতে আসতো। এক সময় অনবরত বৃষ্টির কারণে ছড়ার পানি বৃ্দ্ধি পাওয়ায় বানরের দল ছড়া পাড় হয়ে পাহাড়ে যেতে না পারায় একে অপরকে ধরে ধরে সারিবদ্ধভাবে ছড়া পাড় হয়। বানরের ছড়া পারাপারের এই দৃশ্য দেখতে পায় এই জনপদের মানুষ। এই সময় থেকে এই জায়গাটির পরিচিতি লাভ করে “ম্যাঅকছি ছড়া ” হিসাবে । অর্থ্যাৎ মার্মা ভাষায় ম্যাঅক অর্থ বানর আর ছিঃ অর্থ বাঁধ । কালের প্রবাহে বাংলা ভাষাভাষির সাধারণ উচ্চারণে এই এলাকার নাম রুপ লাভ করে বান্দরবান হিসাবে । বর্তমানে সরকারি দলিল পত্রে বান্দরবান হিসাবে এই জেলার নাম স্থায়ী রুপ লাভ করেছে। তবে মার্মা ভাষায় বান্দরবানের নাম “রদ ক্যওচি ম্রো”।

বৃটিশ শাসন আমলে ১৮৬০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামকে জেলা ঘোষণা করা হয়। তৎকালীন সময়ে বান্দরবান পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার অধীন ছিলো। ক্যাপ্টেন মাগ্রেথ ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার প্রথম সুপারিনট্যানডেন্ট। ১৮৬৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার সুপারিনট্যানডেন্ট পদটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হয় এবং ১৮৬৭ সালে এই পদটির নামকরণ করা হয় ডেপুটি কমিশনার। পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার প্রথম ডেপুটি কমিশনার ছিলেন টি, এইচ লুইন। ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন অনুসারে পার্বত্য চট্টগ্রামকে তিনটি সার্কেলে বিভক্ত করা হয়-চাকমা সার্কেল, মং সার্কেল, এবং বোমাং সার্কেল। প্রত্যেক সার্কেলের জন্য একজন সার্কেল চীফ নিযুক্ত ছিলেন। বান্দরবান তৎকালীন সময়ে বোমাং সার্কেলের অর্ন্তভুক্ত ছিলো। বোমাং সার্কেলের অন্তর্ভূক্ত হওয়ার কারণে এই জেলার আদি নাম বোমাং থং।

বান্দরবান জেলা ১৯৫১ সালে মহকুমা হিসেবে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করে। এটি রাংগামাটি জেলার প্রশাসনিক ইউনিট ছিলো। পরর্বতীতে ১৯৮১ সালের ১৮ই এপ্রিল, তৎকালিন লামা মহকুমার ভৌগলিক ও প্রশাসনিক সীমানাসহ সাতটি উপজেলার সমন্বয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে।

এখানে রয়েছে দর্শনীয় স্থান মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স, চিম্বুক, শৈল প্রপাত, প্রান্তিক লেক, বগালেক, কেওক্রাডং, তজিংডং, মিরিঞ্জা, রিজুক জল প্রপাত, নীলাচল পর্যটন কেন্দ্র, নীলগিরি, স্বর্ণমন্দির, ক্যওজাদি পাহাড়, আলীর সুড়ঙ্গ, তিন্দু পাথর ছড়া, রাইংখং পুকুর। এ জেলায় রয়েছে তিনটি নদী সাংগু, মাতামুহুরী এবং বাকখালী।

এখানকার অর্থকরী ফসল আদা, হলুদ, তিল, তুলা, আনারস, কাজুবাদাম, কমলা, কলা, কাঁঠাল, লেবু, তামাক, ইক্ষুসহ নানা প্রকার শাকসব্জি।

দেশের উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্রে সমৃদ্ধ এই জেলা।

এখানে পাহাড়, পর্বত, মেঘ আর সবুজ প্রকৃতি যেন একাকার। পাহাড়ে মেঘের ভেলায় যেন ভেসে বেড়ায় মানুষের স্বপ্ন। প্রকৃতি প্রেমিদের জন্য বান্দরবান জেলা একটি আদর্শ জেলা।

বান্দরবান পার্বত্য জেলার বর্তমান জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শামীম আরা রিনি। যিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে শিক্ষার মানউন্নয়ন সহ জেলায় শান্তি ও সম্প্রীতি স্থাপনে সচেষ্ট রয়েছেন। জেলা পুলিশ সুপার মোঃ শহিদুল্লাহ কাওছার,পিপিএম(বার)। যিনি এজেলায় আইন শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছেন।
৭টি উপজেলা নিয়ে এই জেলা। উপজেলা গুলি হলো বান্দরবান সদর উপজেলা, আলীকদম উপজেলা, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা, রোয়াংছড়ি উপজেলা,লামা উপজেলা,রুমা উপজেলা, থানচি উপজেলা।
প্রতিটি উপজেলাতেই রয়েছে দর্শনীয় স্থান। পাহাড়, পাহাড়ী ঝর্ণা, নদীর স্রোত ও স্বচ্ছজল, সবুজ বনাঞ্চল, পাথর, স্বচ্ছ মেঘ ও অনিন্দসুন্দর প্রকৃতি পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। বিশেষ করে কেওক্রাডং বা কেওকাড়াডং হলো বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা বান্দরবানে অবস্থিত একটি পর্বতশৃঙ্গ। এটি বাংলাদেশের সরকারিভাবে স্বীকৃত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। এর প্রকৃত উচ্চতা প্রায় ৯৮৬ মিটার (৩,২৩৫ ফুট) হলেও, সরকারিভাবে স্বীকৃত উচ্চতা ১,২৩০ মিটার (৪,০৪০ ফুট)।এটি রুমা উপজেলায় অবস্থিত। বান্দরবানে মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, হিন্দু এবং আদিবাসী উপজাতিসহ বিভিন্ন ধর্মের ও জনগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করে, যেখানে উপজাতিদের মধ্যে ম্রো (Murong), বম ও চাক (Chak) অন্যতম, এবং এরা নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী জীবনযাপন ও সংস্কৃতির জন্য পরিচিত।