# Tags

ভূমিদস্যু, ভূমিজালিয়াত,অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের বিরুদ্ধে লোহাগড়ায় মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর সমাবেশ অনুষ্ঠিত

নড়াইল প্রতিনিধি-ভূমিদস্যু, ভূমিজালিয়াত,অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের বিরুদ্ধে নড়াইলের লোহাগড়ায় মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার সকাল ১০ টায় লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ গেটের সামনের সড়কে এ মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান কুটি, মোঃ জাহিদ হোসেন, শাহিদুল ইসলাম সহ তাদের গডফাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে এ মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধন শেষে লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট স্বারকলিপি প্রদান করেছে ভূক্তভোগী ও এলাকাবাসীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন যাবত কয়েকজন চিহ্নিত ভূমিদস্যু ও প্রভাবশালী ব্যক্তি আমাদের মালিকানাধীন জমি অবৈধভাবে ও জাল দলিল এবং ডিগ্রী তৈরী করে দখলের চেষ্টা করে আসছে। তারা অনেককে ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করেছে।
ভূমিদস্যু লক্ষীপাশা গ্রামের মোঃ সাহিদুল ইসলাম জালজালিয়াতি কাজ করে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন। লক্ষীপাশা ও রামপুর মৌজায় তার ৪টা বাড়ি।

ভূমিদস্য মোঃ সাহাজান কুটির নামে বেনামে অন্তত ৫০ কোটি টাকার মালিক। ভূমি জালিয়াতি করে অবৈধভাবে এ টাকা আয় করেছে।

ভূমি জালিয়াতিচক্রের আরেক সদস্য উপজেলা পরিষদের অফিস সহায়ক জাহিদ হোসেন ও তার সহযোগিরা দেওয়ানি ৬৯০/১৯৮৩ নং কেসের মাধ্যমে জাল ডিগ্রী তৈরী করে। যার ৪নং বাদী জাহিদের বোন জামাই এসএম খায়রুল হাসান। এ রকমে অনেক জালজালিয়াতি করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ভূমিদস্যু জাহিদ হোসেন।

বক্তব্যে ভূক্তভোগী লক্ষীপাশা গ্রামের বাসিন্দা সুশান্ত বিশ্বাস অভিযোগ করেন, আমরা ব্রিটিশ আমল থেকে নিজবাড়ি থেকে যে রাস্তা দিয়ে যাওয়া-আসা করছিলাম সেই রাস্তার জমি এই জালজালিয়াত চক্র ভূয়া ডিগ্রী তৈরী করে স্থায়ীভাবে দখলের চেষ্টা করছে। জালজালিয়াত চক্রের প্রধান শেল্টারদাতা হলেন লক্ষীপাশা গ্রামের বাসিন্দা দিদার এলাহী সজিব। সজিব নিজেই সরকারি রাস্তার জমি জালিয়াতচক্রের মাধ্যমে অবৈধ কাগজপত্র তৈরী করে স্থায়ীভাবে দখলের পায়তারা করছে। এমনকি পেশী শক্তি খাটিয়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে সরকারি রাস্তায় সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে দখলের অপচেষ্টায় ব্যস্ত। ওই জালিয়াতচক্র রাস্তা দখল করে প্রাচীর নির্মাণ করায় অর্ধশতাধীক সংখ্যালঘু পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। পরে প্রশাসন ও নড়াইল-২ আসনের এমপির উপস্থিতিতে প্রাচীর অপসারণের সিদ্ধান্ত হলেও প্রভাবশালী ওই চক্ররা পরবর্তীতে ওই সীমানা প্রাচীর অপসারনে বাধাপ্রদান করেছে। ফলে সংখ্যালঘুরা এখনো অনিশ্চয়তায় দিনপার করছে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সাবেক পৌর মেয়র এ্যাডঃ নেওয়াজ আহম্মেদ ঠাকুর নজরুল, বিএনপি নেতা মোঃ আনিসুর রহমান কামাল, সৈয়দ শাহ আলম, ভূক্তভোগী সুশান্ত বিশ্বাস, এসএম ঈমাম আলী।

অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী কায়সার স্বারকলিপি প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে বলেন, তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভূমি জালিয়াতদের ছাড় দেয়া হবে না। ##