# Tags

বরুড়ায় অটোরিকশাচালককে চোখ বেঁধে নৃশংস মারধর, মোবাইল ও নগদ অর্থ ছিনতাই, থানায় অভিযোগ দায়ের

মোঃ মহিবুল্লাহ্ ভূইয়া কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃকুমিল্লার বরুড়ায় এক অটোরিকশাচালককে পরিকল্পিতভাবে ভাড়ায় নিয়ে নির্জন স্থানে চোখ-মুখ বেঁধে নৃশংসভাবে মারধর করে মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত ওই চালক রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। ঘটনায় বরুড়া থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ:গত ১৪ জুন ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে বরুড়া জিরো পয়েন্ট এলাকায় সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী দলের সদস্যরা মিশুক অটোরিকশাচালক মো. এমরান হোসেন বাহার (২৮)-কে মাত্র ১০০ টাকা ভাড়ায় বাঁশতলী এলাকায় যাওয়ার কথা বলে গাড়িতে ওঠেন। গাড়িতে ওঠার সময় একজনের হাতে একটি কালো লম্বা বিদেশি টর্চলাইট ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

রাত আনুমানিক ১০টার সময় বরুড়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দেওড়া হরিমল ব্রিজের দক্ষিণ পার্শ্বে প্রজেক্টের সামনের অন্ধকার রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে আসামিরা অতর্কিতে চালকের গামছা দিয়ে তাঁর চোখ-মুখ শক্তভাবে বেঁধে ফেলেন। এরপর তাঁকে হত্যা করে গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার হুমকি দেন। চালক গাড়ির চাবি দিতে অস্বীকার করলে আসামিরা তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন এবং একজন টর্চলাইট দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর মাথার বাম পাশে কানের উপরে আঘাত করেন, যাতে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়।

ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসছে দেখে আসামিরা তাঁর মানিব্যাগ থেকে সারাদিনের আয় বাবদ ১,৭০০ টাকা এবং তাঁর ব্যবহৃত Vivo Y18 মডেলের একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন (মূল্য আনুমানিক ২০,০০০ টাকা, সিম নম্বর: ০১৬০৬-২১৫৬৭৫) ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

রক্তাক্ত অবস্থায় অজ্ঞান, হাসপাতালে চিকিৎসা:
চোখ বাঁধা থাকায় ভুক্তভোগী কিছু দেখতে পাননি। স্থানীয়রা এসে তাঁর চোখের বাঁধন খুলে দিলে তিনি সাথে থাকা একটি বাটন ফোনে তাঁর ছোট বোন সামান্নাহারকে ঘটনা জানান। এরপর পঙ্গু হাসপাতাল চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে খুঁজে উদ্ধার করে মিশুক অটোরিকশাসহ বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

অভিযোগ দায়ের:

ভুক্তভোগীর ভাই মো. হৃদয় মনি ফরহাদ (২৬), পিতা- মো. শামসুল হক, সাং- শ্রীপুর, ১ নম্বর পৌর ওয়ার্ড, থানা- লাকসাম, বর্তমানে বরুড়া থানার তলাগ্রাম নিবাসী, বরুড়া থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে,
১) মোহাম্মদ আলী (৩০), পিতা- মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, সাং- তলাগ্রাম, ২ নম্বর পৌর ওয়ার্ড, বরুড়া এবং
২) মো. জাকির ওরফে জাহিদ (৩৮), পিতা- মৃত আব্দুল আলী, সাং- ঘোউলী, ৫ নম্বর ঝলম ইউপি, বরুড়া সহ অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে।

স্থানীয় মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া:ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা রাতের অন্ধকারে এ ধরনের সংঘবদ্ধ ছিনতাইয়ের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বরুড়া থানা পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।