# Tags

ইউএনও’র সোনালী ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে ভালুকা!

মোঃ আক্কাছ আলী, ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ একজন অনন্যপ্রতিভা প্রশাসনিক কর্মকর্তা, যিনি উন্নয়নকে শুধু দায়িত্ব নয়, বরং মানুষের জন্য ভালোবাসা ও অঙ্গীকার হিসেবে দেখেন। তাঁর সাহসী ও মানবিক নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্ন খাতে এসেছে অভূতপূর্ব পরিবর্তন।

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ফুটপাথের ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন, পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষা কর্মসূচি, নাগরিক সেবা দ্রুততর করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে তাঁর অনন্য অবদান। সরকারি হাসপাতালকে দালালমুক্ত করে পরিচ্ছন্ন ও সেবামুখী করতে চালু হয়েছে নতুন অনুসন্ধান বুথ, যা ইতোমধ্যেই ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

তবে এই সকল কার্যক্রমের মধ্যেও ভালুকাবাসীর হৃদয়ে সবচেয়ে বড় আশা জাগিয়েছে নতুন বিনোদন কেন্দ্র প্রকল্প। শিশু-কিশোর, বৃদ্ধ, নারীসহ সকলের জন্য একটি মিনি এমিউজমেন্ট পার্ক, একটি লাইব্রেরি, ইনডোর ব্যাডমিন্টন মিনি স্টেডিয়াম এবং বিস্তীর্ণ ওয়াকওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন ইউএনও।

স্থানীয়রা জানান, এই কেন্দ্রটি হবে পরিবারের সকল সদস্যের জন্য নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সময় কাটানোর স্থান। তাঁরা ইউএনও’র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এটি ভালুকার ইতিহাসে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হবে।

সচেতন মহল মনে করছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভালুকা কেবল একটি উন্নয়নশীল উপজেলা নয়, বরং মানবিকতা ও আধুনিক নাগরিক চাহিদার সমন্বয়ে দেশের সামনে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে উদাহরণ তৈরি করবে।

ইউএনও হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন,“ভালুকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি নিরাপদ ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ বিনোদন কেন্দ্রের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। আমরা সেই দাবিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। এই কেন্দ্রটি হবে পরিবার, সংস্কৃতি ও সচেতনতার এক মিলনমেলা। ভালুকাবাসীর স্বপ্ন এখন আর স্বপ্ন নয়, এটি বাস্তবতার পথে হাঁটছে। ইনশাআল্লাহ, সকলের সহযোগিতায় খুব শিগগিরই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।”

এছাড়া উচ্ছেদকৃত দোকানদারদের পুনর্বাসনে নতুন মডেল চায়ের দোকান নির্মাণের উদ্যোগও নিয়েছেন ইউএনও। এই দোকানগুলোতে হাইজিন ও পরিবেশের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেক দোকানিকে দুইটি ফুলের টব, একটি ডাস্টবিন রাখতে হবে এবং পরিচ্ছন্নতা চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করতে হবে।

তিনি আরো জানান, “মাথার ওপর ছেঁড়া পলিথিনে ঢাকা দোকান নয়, এবার আমরা সবাই মিলে ভালুকাকে নতুনভাবে সাজাবো। পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা ছাড়া ব্যবসা নয়। উচ্ছেদকৃত দোকানদাররাই নতুন দোকানের সুযোগ পাবেন, নতুন কাউকে দেওয়া হবে না।”

ভালুকাবাসীর কাছে ইউএনও হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এখন শুধু একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা নন, বরং একজন প্রকৃত পথপ্রদর্শক এবং মানুষের সুখ-দুঃখের অংশীদার।