# Tags

মালচিং ও ফেরোমন ফাঁদে মরিচ চাষে সেলিমের সাফল্য

আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি :দিনাজপুরের বিরল উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের হালজাই শালতলা গ্রামের মালয়েশিয়া ফেরত যুবক সারোয়ার সেলিম (৩৫) আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে মরিচ চাষে সাফল্য পেয়েছেন। তিনি ৪৮ শতক জমিতে বিজলি প্লাস-২০২০ জাতের মরিচ চাষ করে ইতোমধ্যে সাড়ে ৩ লাখ টাকার মরিচ বিক্রি করেছেন। মৌসুম শেষে সর্বমোট আয় হবে প্রায় ৬ লাখ টাকা বলে আশা করছেন তিনি।

পাকা রাস্তার ধারে বিস্তৃত সবুজ মরিচক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, সারোয়ার সেলিম প্রচলিত কৃষি পদ্ধতি বাদ দিয়ে মালচিং ও ফেরোমন হলুদ ফাঁদ ব্যবহার করেছেন। এ প্রযুক্তি খরচ কমানো ও রোগবালাই প্রতিরোধের পাশাপাশি উৎপাদন বাড়াতেও কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

সেলিম জানান, সাত বছর মালয়েশিয়ায় থাকার পর গত বছরের অক্টোবরে দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে ইউটিউব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে প্রথমে করলা, পরে মরিচ চাষ শুরু করেন। এ বছর মরিচ চাষে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এর মধ্যে সাড়ে ৩ লাখ টাকার মরিচ বিক্রি সম্পন্ন করেছেন। আগামী দুই মাসে আরও আড়াই থেকে ৩ লাখ টাকার মরিচ বিক্রির আশা করছেন তিনি। তিনি বলেন, বাপ-দাদার আমলের সনাতন পদ্ধতিতে কৃষি করে লাভবান হওয়া এখন কঠিন। আধুনিক ও স্মার্ট কৃষি পদ্ধতি গ্রহণ করলেই সফলতা সম্ভব। সময়মতো কোন ফসলের চাহিদা থাকবে, সেটাও জানা জরুরি।

মরিচের পাইকার শাহীন আলম জানান, বর্ষা মৌসুমে মরিচের উৎপাদন কম হয়, তাই দামও বেশি থাকে। সারোয়ার সেলিমের কাছ থেকে চার দফায় মরিচ কিনেছেন তিনি। এ সময় সর্বোচ্চ ২৩০ টাকা কেজি পর্যন্ত মরিচ কিনতে হয়েছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে মরিচ চাষ ঝুঁকিপূর্ণ। বৃষ্টিতে গাছ নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু মালচিং ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে সেলিম যে সফল হয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা হাসান ইমাম জানান, মালয়েশিয়া থেকে ফেরার পর সেলিম কৃষি বিষয়ে পরামর্শ নিতে আসেন। কৃষি অফিস থেকে দেওয়া সব পরামর্শ কাজে লাগিয়ে তিনি এখন সফল চাষি হিসেবে পরিচিত হয়েছেন। তার সফলতায় স্থানীয় অনেক কৃষকও মরিচ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।