# Tags

দৌলতপুরে পদ্মা পুরাণ গানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও গান বন্ধ।। পরে সীমিত আকারে সম্পন্ন

সাইদুর রহমান দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সালিম পুর গ্রামে পদ্ম পুরনো গান চলাকালিন সময় এক যুবক ক্ষীপ্ত হয়ে মব করে গান বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনা কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা কর পরিস্থিতি দেখা দিলে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় সীমিত আকারে গান চলে বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনা কে কেন্দ্র করে এলাকাবাসির মধ্যে প্রশ্ন দেখা দেয়

বিলুপ্তির পথে থাকা গ্রামবাংলার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী লোকজ গান ‘পদ্মা পুরাণ’ গানের আয়োজন মব করে বন্ধ করা মৌলবাদীদের হাতছানি কি না তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। ঘটনা টি ঘটেছে উপজেলার তারাগুনিয়া ইউনিয়নের শালিমপুর গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এলাকায় সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় গ্রামীণ লোকবিশ্বাস ও প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী সাপের উপদ্রব থেকে পরিত্রাণের আশায় মুন্নি খাতুনের উদ্যোগে ‘পদ্মা পুরাণ’ বা ‘মনসামঙ্গল’ গানের আয়োজন করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় গান চলাকালে শরিফুল ইসলাম শরীফ নামের স্থানীয় এক যুবক ফেসবুক লাইভে এসে অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করেন বলে অভিযোগ।

সংস্কৃতির নামে কুসংস্কার ছড়ানো হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে তিনি অনুষ্ঠান বন্ধের দাবি জানান। একপর্যায়ে গান বন্ধ হয়ে যায়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও আয়োজকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজক মুন্নি খাতুন বলেন, ‘আমি মাঝেমধ্যেই স্বপ্নে দেখি বেশ কিছু সাপ এসে আমাকে কামড়াতে যাচ্ছে। বিষয়টি আমার মা জানার পর স্থানীয় ওঝার পরামর্শে পদ্মা পুরাণ গান আয়োজন করি। এর আগেও ঘর থেকে একাধিকবার সাপ মারা হয়েছে।

তারপরও উপদ্রব না কমলে বাধ্য হয়ে এই গান করি। কিন্তু গান চলাকালে এক যুবক এসে বন্ধ করতে বললে শিল্পীরা তাৎক্ষণিক গান থামিয়ে দেন। পরদিন সকালে সীমিত পরিসরে শেষ করা হয়।’ স্থানীয় ছয়জন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের মধ্যে দুই নারী ও চার পুরুষ এই ঐতিহ্যবাহী গান বন্ধের চেষ্টায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের বক্তব্য, ‘পদ্মা পুরাণ’ গ্রামবাংলার পুরনো লোকসংস্কৃতির অংশ। কুসংস্কার বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলে তা যাচাই করা যেতে পারে;

কিন্তু কোনো তদন্ত ছাড়াই শত বছরের ঐতিহ্যবাহী লোকজ আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। তবে তারাগুনিয়া বাজার জামে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, ‘ইসলামে এই ধরনের গান-বাজনার কোনো অস্তিত্ব নেই। ছেলেরা মেয়ে সেজে অশালীনভাবে নাচ-গান করেছে, সেটি কোনোভাবেই ইসলাম সমর্থন করে না।’ তারাগুনিয়া শাহী মসজিদের খতিব মোহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, ‘পদ্মা পুরাণ গান ইসলাম শরিয়া মোতাবেক কোনো গান নয়। এটা নিতান্তই মানুষের ভুল ধারণা। সাপের হাত থেকে বাঁচতে গান দিয়ে রেহাই পাওয়া যায় না।

এগুলো মানুষকে শিরকের দিকে ধাবিত করে।’ অনুষ্ঠানের শিল্পী মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘মা মনসার গান কেউ কোনোদিন করে দেয় না। অতিমাত্রায় বিপদে পড়লে মানুষ এ ধরনের গান আয়োজন করে। একে অবজ্ঞা করা উচিত নয়।’ অন্যদিকে, অনুষ্ঠান বন্ধের দাবি জানানো শরিফুল ইসলাম শরীফ বলেন, ‘আমাদের গ্রামেই কিছু ছেলে মেয়ে সেজে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে নৃত্য করছিল। আমার মনে হয়েছে পদ্মা পুরাণ গান সরাসরি শিরকের সমতুল্য। গ্রামবাসীকে শিরক থেকে বাঁচাতে আমি বাধা দিই। কারোর ধর্মে আঘাত করার চেষ্টা করিনি।’

পরদিন শনিবার সকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সীমিত পরিসরে পুনরায় ‘পদ্মা পুরাণ’ গান পরিবেশনের সুযোগ দেওয়া হয় এবং নির্ধারিত আয়োজন সম্পন্ন হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চললেও নিজেদের লোকঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধরে রাখা জরুরি। কোনো বিরোধ দেখা দিলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।

এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ‘গানের নামে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অবৈধ অর্থ লেনদেনের ঘটনা না ঘটলে এ ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ করা আইনসম্মত নয়। শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী লোকজ গান বন্ধ হোক, সেটি প্রশাসনও চায় না। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি এলাকা বাসির।