কুলিয়ারচরে বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন
মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ):
মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচরের বিএনপি নেতা খাইরুল ইসলাম বকুল (৫২)।
গত ১২ মে মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার সালুয়া ইউনিয়নের ডুমরাকান্দা বাজারে তার নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চত্বরে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
খাইরুল ইসলাম বকুল উপজেলার উত্তর সালুয়া গ্রামের মুত আব্দুর রহমান ও মৃত আছিয়া খাতুন দম্পত্তির ছেলে এবং স্থানীয় সালুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
সংবাদ সম্মেলনে খাইরুল ইসলাম বকুল তার লিখিত বক্তব্য পাঠ করে বলেন, গত ৯ মে অনলাইন নিউজ ভার্সন বাংলাদেশের খবর, অনলাইন নিউজ পোর্টাল SUN NEWS 24X7 ও গত ১০ মে অনলাইন নিউজ পোর্টাল THE DHAKA XPRESS- এ “সাংবাদিককে তুলে নিয়ে বিএনপি নেতার নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এছাড়া গত ৯ মে অনলাইন নিউজ পোর্টাল দৈনিক বাংলাদেশ মিডিয়া- তে “সাংবাদিককে তুলে নিয়ে বিএনপি নেতার বর্বর নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল” শিরোনামেসহ বিভিন্ন পত্রিকায়, অনলাইন নিউজ ভার্সন, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার বিরুদ্ধে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসব সংবাদে তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন দাবী করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ভাবে সমাজে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন চক্রান্তে লিপ্ত হয়ে কথিত সাংবাদিক পরিচয়দানকারী এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ ও মাদকসেবী নাহিদুল হাসান রুকন সহ একটি কুচক্রী মহল সাংবাদিকদের নিকট মিথ্যা তথ্য দিয়ে ও মিথ্যা অভিযোগ করে তার বিরুদ্ধে এসব সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে, এলাকায় তেল মজুদ, কৃষি জমি ধ্বংস করে বালু উত্তোলন ও মাদক কারবারের সংবাদ প্রকাশ করায় তিনিসহ তার সহযোগীরা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ‘বাংলাদেশ মিডিয়া’র কুলিয়ারচর প্রতিনিধি নাহিদুল হাসান রুকনকে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে রীতিমতো ‘সালিশ’ বসিয়ে তাকে বেধড়ক শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছে। যাহা আদৌও সত্য নয় দাবী করে বকুল বলেন, আমি তেল মজুত, বালু উত্তোলন ও মাদক কারবারের সাথে কখনো জড়িত নই।
এর ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, প্রকৃত অর্থে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জননেতা শরীফুল আলম ভৈরব-কুলিয়ারচরকে মাদকের জিরো টলারেন্স ঘোষণা করার পর লোক মুখে তিনি জানতে পারেন একই ইউনিয়নের নাহিদুল হাসান রুকন নিজেকে সালুয়া ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা, জিয়ার সৈনিক ও বড় মাপের একজন সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজী, বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক তাদের নিকট থেকে অর্থ আদায় করে আসছে এবং মাদক সেবন ও বিক্রির করে এলাকার যুবসমাজকে ধ্বংস করছে। এসব সংবাদ পেয়ে প্রায় দুই মাস আগে তিনি নাহিদুল হাসান রুকনকে খবর দিয়ে ডুমরাকান্দা বাজারে এনে আর যাতে এসব অপকর্ম না করে সেজন্য তাকে সতর্ক করে দেন। এরপর থেকেই রুকন বিএনপি নেতা খাইরুল ইসলাম বকুলের উপর ক্ষিপ্ত হয়। এর কিছু দিন পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বকুলকে নিয়ে একাধিক স্ট্যাটাস ও লাইভ দিয়ে বিভিন্ন অপপ্রচার করে বকুলের মানহানি করে রুকন। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে স্থানীয় ডুমরাকান্দা বাজারের তাজা ফুড এন্ড এগ্রো কনজুমার প্রোডাক্টস নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিষয়টি আপোষ মিমাংসার লক্ষে এলাকার লোকজন রুকনকে বকুলের নিকট নিয়ে আসে। এসময় রুকন নিজের দোষ স্বীকার করে এবং দু’হাত জোর করে বকুলের নিকট ক্ষমা চেয়ে তার ফেসবুক আইডি থেকে বকুলের মানহানিকর সকল লিখা ও লাইফ ডিলিট করে দেয়। এরপরও বকুল রুকনকে ক্ষমা করতে রাজী না হয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে থাকে। এসময় বকুলকে খুশী করতে রুকনের হিতাকাঙ্ক্ষী ২নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মো. মাসুম মিয়া বিষয়টি মিমাংসার লক্ষে রুকনের পিটে দুইটি থাপ্পড় দিয়ে বকুলের নিকট ক্ষমা চাওয়ান। তাৎক্ষণিক উপস্থিত গন্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গের অনুরোধে রুকনকে ক্ষমা করে দেন বকুল। এসময় বকুল কিংবা বকুলের লোকজন রুকনকে কোনরকম মারধর করেনি। সালিশে উপস্থিত গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে জিজ্ঞেস করলে তা বেরিয়ে আসবে এমন দাবী বকুলের। ওই দিনই বিষয়টি মিমাংসা হয়ে যায়। এঘটনাকে অন্য দিকে প্রবাহিত করতে একটি কুচক্রী মহল ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি গোপনে ভিডিও করে রাখেন। পরে দুই সপ্তাহপর ওই ভিডিওকে পুঁজি করে বকুলের এন্ট্রি পার্টির লোকজন নাহিদুল হাসান রুকনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সাংবাদিকদের নিকট মিথ্যা তথ্য দিয়ে বকুলের বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে কেউ তার এসব মিথ্যা অভিযোগের সংবাদ প্রকাশ করেনি দাবি করে বকুল বলেন, তারাও জানেন সে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের বরাত দিয়ে সংবাদে উল্লেখ করা হয়, ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে বকুল নাকি এলাকায় রীতিমতো ‘মাস্তানতন্ত্র’ কায়েম করেছে। তার ছত্রছায়ায় এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক, জুয়া এবং নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করায় সাধারণ মানুষ তো বটেই, খোদ নিজ দলের নেতারাই নাকি বকুলের ওপর ক্ষুব্ধ। যাহা সঠিক নয় দাবী করে বকুল বলেন, সংবাদে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট এমন কোন অভিযোগ কেউ করেছে এমন কোন তথ্য উল্লেখ করেনি। কাল্পনিক বিষয় নিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করাও দণ্ডনীয় অপরাধ উল্লেখ করে তিনি এলাকায় এসব বিষয়ে তদন্তের দাবি জানান।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, নাহিদুল হাসান রুকন নিজেকে সালুয়া ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা, জিয়ার সৈনিক ও বড়মাপের একজন সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রতারণা করে অর্থ আদায়, চাঁদাবাজী, মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকাসহ মাদকসেবনের অহরহ প্রমান সংরক্ষিত আছে। যাহা ইতোমধ্যে একাধিক সাংবাদিক তথ্য সংগ্রহ করে নিয়ে গেছেন বলেও উল্লেখ করেন। এছাড়া তিনি আরো বলেন, নাহিদুল হাসান রুকন সালুয়া ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কেউ নন। এমনকি ইতোপূর্বেও কোন কমিটিতে ছিলোনা। বরং সে সহ তার পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত থাকার তথ্য প্রমাণ রয়েছে। আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম করে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত সে। যাহা প্রমাণিত। এছাড়া তিনি আরো বলেন, ৫ আগস্টের পর রুকন এলাকায় এসে বিএনপি থেকে সুযোগ সুবিধা আদায়ের লক্ষে নিজেকে বিএনপির কর্মী ও জিয়ার সৈনিক দাবী করে বিভিন্ন মিটিংয়ে গিয়ে নেতা কর্মীদের সাথে তার কিছু ছবি তুলে নিজেকে নেতা দাবী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোষ্ট করে আসছে। ৫ আগস্টের আগে কোন দিন তাকে সালুয়া ইউনিয়নের কোথাও দেখা যায়নি। এমনকি সে কোন জাতীয় কিংবা নামধারী কোন পত্রিকার সাংবাদিকও নয়। সে তার বড় ভাইয়ের একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল দৈনিক বাংলাদেশ মিডিয়া ডটকম-এ কাজ করে। কয়েক বছর আগে মাদক সেবনের দায়ে তার বাবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তাকে তুলে দেয়। এরপর সে দীর্ঘদিন কারা ভোগ করে বাড়ি এসে পূনরায় মাদক সেবন ও ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পরে। মাদকের টাকা জোগার করতে না পারলেই অনলাইন নিউজ পোর্টালের একটি আইডি কার্ড ব্যবহার করে নিজেকে সাংবাদিক দাবী করে এলাকায় চাঁদাবাজী করে সে। যা পরীক্ষা নিরীক্ষা ও তদন্ত করলে সব বেরিয়ে আসবে।
এসময় তিনি আরো বলেন, সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে নাহিদুল হাসান রুকন ডুমরাকান্দা বাজারের রড সিমেন্ট ও বালু ব্যবসায়ী ঠিকাদার মো. রতন মিয়ার ঠিকাদারি লাইসেন্স বাতিল করে দিবে এমন ভয় দেখিয়ে তার নিকট থেকে ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।
বাজারের অপর ব্যবসায়ী হাজী আইন উদ্দিনের পক্ষে জায়গা সম্পত্তির বিষয় নিয়ে একটি সংবাদ করার কথা বলে তার নিকট থেকে প্রতারণা করে ৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে কোন সংবাদ করেনি সে।
এছাড়া বাজারের মাতৃ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মালিক লিটন কর এর নিকট থেকে মোবাইল কোর্টের ভয় দেখিয়ে ২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।
অপর দিকে একটি খেলার আয়োজনের কথা বলে সালুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজী দেলোয়ার হোসেনের নিকট থেকে ৩ হাজার টাকা চাঁদা নিয়ে ওই টাকা খেলা কমিটির নিকট বুঝিয়ে না দিয়ে তা আত্মসাৎ করে রুকন।
তিনি এসব বক্তব্য শেষে প্রকাশিত সংবাদগুলোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রতারক, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি ও মাদকাসক্ত কথিত সাংবাদিক পরিচয়দানকারী নাহিদুল হাসান রুকন এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনসহ মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, এমপির নিকট জোর দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সালুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাদেকুর রহমান (মানবিক সাদেক), সদস্য মাহাবুব খান, সালুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. ফারুক মিয়া, সালুয়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি মো. রফিক মিয়া, ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নূরুল হুদা বকুল, ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মতি মিয়া, ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মাসুম মিয়া, ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাজু মিয়া, বিশিষ্ট পোল্ট্রি ব্যবসায়ী মাসুদ রানা তালুকদার ও ৩নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াছিন মিয়া সহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এসময় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সমকাল প্রতিনিধি মোহাম্মদ হারুন চৌধুরী, নয়াদিগন্ত প্রতিনিধি মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, মাতৃভূমি ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি মো. মাইন উদ্দিন, প্রলয় প্রতিনিধি আলি হায়দার শাহিন, আমার সংবাদ প্রতিনিধি মোহাম্মদ আরীফুল ইসলাম, আমার দেশ প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলী সোহেল, ইনকিলাব প্রতিনিধি আহমেদ সিফাত, আজকের জনবাণী প্রতিনিধি লোকমান হোসাইন, কালের নতুন সমাজ প্রতিনিধি মো. সবুজ মিয়া, বাংলাদেশ বুলেটিন প্রতিনিধি মুছাম্মৎ রোকেয়া আক্তার, খোলা কাগজ প্রতিনিধি মোছা. শরীফুন্নেছা শুভ্রা, পূর্বকণ্ঠ নিজস্ব প্রতিবেদক শাহীন সুলতানা, পূর্বকণ্ঠ নিজস্ব প্রতিবেদক ইশতিয়াক আহমাদ শৈভিক ও গৃহকোণ প্রতিনিধি মো. সালাহ উদ্দিন সহ স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।
ডুমরাকান্দা বাজারের তাজা ফুড এন্ড এগ্রো কনজুমার প্রোডাক্টস এর সত্ত্বাধিকারী মো. মজনু মিয়া বলেন, আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ওইদিন সালিশটি হয়েছিলো। সালিশে বকুল কিংবা বকুলের লোকজন রুকনকে মারধোর করেনি। মিমাংসার স্বার্থে রুকনের হিতাকাঙ্ক্ষী মাসুম মিয়া রুকনের পিটে দুইটি থাপ্পর দিয়ে বকুলের নিকট ক্ষমা চাওয়ানোর পর বিষয়টি সমাধান হয়ে যায়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি মনযোগ দিয়ে দেখলে তার সত্যতা মিলবে। এছাড়া ওইদিন উপস্থিত একাধিক সালিশান একই কথা বলেন।
ডুমরাকান্দা বাজারের মেসার্স রতন এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার মো. রতন মিয়া বলেন, আমার ঠিকাদারি লাইসেন্স বাতিল করে দিবে এমন ভয় দেখিয়ে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী নাহিদুল হাসান রুকন আমার নিকট থেকে ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।
বাজারের অপর ব্যবসায়ী হাজী আইন উদ্দিন এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্বাধিকারী হাজী আইন উদ্দিন বলেন, সাংবাদিক নাহিদুল হাসান রুকন আমার পক্ষে জায়গা সম্পত্তির বিষয় নিয়ে একটি সংবাদ করার কথা বলে আমার নিকট থেকে প্রতারণা করে ৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে কোন সংবাদ করেনি।
এছাড়া বাজারের মাতৃ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মালিক লিটন কর বলেন, নাহিদুল হাসান রুকন আমার মিষ্টির দোকানে এসে একটি মিষ্টি খাওয়ার সময় উপর থেকে একটি মাছি উড়ে তার প্লেটে পড়ে যায়। তখন রুকন মাছি পরা প্লেটের ভিডিও করে তা আমাকে দেখিয়ে হুমকি দিয়ে বলে ইউএনও কিংবা এসিল্যান্ড স্যারকে দেখিয়ে মোবাইল কোর্ট করিয়ে ৫০ হাজার টাকা অথবা ১ লাখ টাকা জরিমানা করাবে। এমন ভয় দেখিয়ে আমার নিকট মোটা অংকের টাকা দাবী করে। তখন ভয়ে আমি রুকনকে ২ হাজার টাকা দিলে সে আরো ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। এর পত্যক্ষ স্বাক্ষী দেয় পার্শ্ববর্তী ভাই বোন মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের সত্ত্বাধিকারী নকুল ঘোষ।
অপর দিকে সালুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজী দেলোয়ার হোসেন বলেন, একটি খেলার আয়োজনের কথা বলে তার নিকট থেকে ৩ হাজার টাকা চাঁদা নিয়ে ওই টাকা খেলা কমিটির নিকট বুঝিয়ে না দিয়ে তা আত্মসাৎ করে রুকন। এছাড়া তিনি আরো বলেন, খায়রুল ইসলাম বকুল একজন ভালো মানুষ। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। যা নিন্দনীয়।
এসব বিষয়ে যোগাযোগ করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও কুলিয়ারচর প্রেসক্লাবের আহবায়ক মো. ইয়াসিন খন্দকার বলেন, এসব বিষয়ে আমার নিকট কোন লিখিত অভিযোগ আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































