# Tags

গোবিন্দগঞ্জের অপরাধীদের আতঙ্কের নাম সেকেন্ড অফিসার মীর কায়েছ

গোবিন্দগঞ্জ প্রতিনিধি:(বাবু) আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা—এক অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবে নিজের গভীর দায়িত্ববোধ, পেশাদারি ও মানবিক আচরণ দিয়ে এই কঠিন কাজটিকে সহজ করে তুলেছেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার সিনিয়র সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মোঃ শিবলী কায়েছ মীর।

আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে মাঠপর্যায়ে তিনি তৈরি করেছেন নিজের এক স্বতন্ত্র ও গ্রহণযোগ্য পরিচিতি। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে গোবিন্দগঞ্জ থানায় যোগদানের পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এসআই কায়েছ।

ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক সংলগ্ন ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই উপজেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ ও অপরাধ দমনে প্রতিনিয়ত নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অপরাধের সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই করে দ্রুত ও কৌশলী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মীর কায়েছের পেশাগত আচরণের অন্যতম দিক হলো তার মার্জিত ব্যবহার ও গভীর ধৈর্য। থানায় আসা সাধারণ মানুষের কথা তিনি অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শোনেন। বিশেষ করে নিম্নআয়ের ও অসহায় মানুষেরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে তিনি সর্বদা সজাগ থাকেন। তবে মানবিকতার কারণে অপরাধীর সাথে কখনো আপস করেন না তিনি; অপরাধের বিরুদ্ধে তার অবস্থান শতভাগ আপসহীন।

মাদক উদ্ধার, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার এবং দ্রুত আইনি সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি গাইবান্ধা জেলা পুলিশের দরবারে একাধিকবার ‘জেলার শ্রেষ্ঠ এসআই’ হিসেবে সম্মাননা ও পুরস্কৃত হয়েছেন। এসব অর্জন তার কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সাথেও তার একটি চমৎকার পেশাদার সম্পর্ক রয়েছে। সাংবাদিকদের দেওয়া তথ্য ও অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করার কারণে গোবিন্দগঞ্জে পুলিশ ও গণমাধ্যমের মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদান এবং সহায়তার একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মোজাম্মেল হকের সুযোগ্য নেতৃত্ব এবং গাইবান্ধা জেলা পুলিশের অপরাধবিরোধী নীতি অনুসরণের মধ্য দিয়েই থানা পুলিশ তাদের কাজ পরিচালনা করছে। একটি পুরো টিমের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এসআই কায়েছ নিজের অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে যাচ্ছেন।

পুলিশের চাকরিতে বদলি একটি স্বাভাবিক ও নিয়মিত প্রক্রিয়া। আজ যিনি এক উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছেন, কাল হয়তো তিনি অন্য কোথাও চলে যাবেন। কিন্তু গোবিন্দগঞ্জের মানুষের কাছে মীর কায়েছের পেশাদারিত্ব, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং অপরাধের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার স্মৃতিগুলো থেকে যাবে দীর্ঘকাল। গোবিন্দগঞ্জের সাধারণ মানুষ এমন একজন কর্মকর্তাকেই প্রত্যাশা করে, যিনি অপরাধীর ক্ষেত্রে কঠোর হলেও বিপন্ন ও সাধারণ মানুষের জন্য হবেন এক অনন্য ভরসার নাম।