# Tags

পলাশবাড়ীতে সিলগালা ক্লিনিকে সরকারি ইনজেকশন, জব্দ না করেই ফের সিলগালা

বায়েজিদ পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) :গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে সিলগালা করা একটি বেসরকারি ক্লিনিকে বিপুল পরিমাণ ব্যবহৃত সরকারি ইনজেকশন পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা শহরের জনসেবা ক্লিনিকের নিচতলা ও দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালিয়ে ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন সেফট্রিয়াক্সন ও ইসোমিপ্রাজল ইনজেকশন দেখতে পান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও পুলিশ। তবে এসব সরকারি ওষুধ জব্দ না করেই ক্লিনিকটি পুনরায় সিলগালা করা হয়েছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত জনসেবা ক্লিনিকে এ অভিযান পরিচালিত হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সালাউদ্দিন আহমেদ এবং পলাশবাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার পরামানিক অভিযানে উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় জনসেবা ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়েছিল। সম্প্রতি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গোপনে ক্লিনিকটি পুনরায় চালু করার খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ক্লিনিকের নিচতলা ও দ্বিতীয় তলায় সরকারি ব্যবহৃত ইনজেকশন দেখতে পান তারা।
অভিযানের সময় ক্লিনিকে অবস্থানরত নার্স, মিডওয়াইফসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন সেখান থেকে চলে যান বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। পরে ক্লিনিকের মালিককে না পেয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ক্লিনিকটি পুনরায় সিলগালা করেন। তবে ক্লিনিকে পাওয়া সরকারি ওষুধগুলো জব্দ করা হয়নি। এমনকি ক্লিনিকের স্টোরে আরও অব্যবহৃত সরকারি ওষুধ রয়েছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা হয়নি বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জনসেবা ক্লিনিক ছাড়াও একই মালিকানাধীন নিউ লাইফ ক্লিনিক এবং নিউ লাইফ ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ফিজিওথেরাপি সেন্টারে দীর্ঘদিন ধরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই অপারেশনসহ বিভিন্ন চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
তাদের আরও অভিযোগ, জনসেবা ক্লিনিকটি সিলগালা করার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই পুনরায় কার্যক্রম শুরু করা হলেও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, সিলগালা করার পর অনুমতি ছাড়া ক্লিনিক পুনরায় চালু করা এবং সেখানে সরকারি ওষুধ ব্যবহারের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ক্লিনিকে পাওয়া সরকারি ইনজেকশনগুলোর উৎস, কীভাবে সেগুলো সেখানে পৌঁছেছে এবং চিকিৎসাসেবায় কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।