# Tags

পঞ্চগড়ে দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে মালচিং পদ্ধতিতে মরিচ চাষ

সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম, পঞ্চগড় \ব্যাপকভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কৃষিখাত। বিভিন্ন কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও কম উৎপাদনের সাথে বাজারে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা যেমন কৃষিতে আগ্রহ হারাচ্ছে তেমনি প্রান্তিক কৃষকদের মাথায় ঋণের বোঝা বাড়ছে। এখন সময় এসেছে আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষিকাজ করে উৎপাদন খরচ কমিয়ে পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে ফসল উৎপাদন। এ রকমই একটি পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতির নাম মালচিং। অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে বেড তৈরী করে সেই বেডে মালচিং পেপার দিয়ে ঢেকে সূর্যের আলো ও তাপ নিয়ন্ত্রণ করে কম খরচে ফসল উৎপাদনই এই পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য। এই পদ্ধতিতে আবাদ করলে আগাছা কম হয়, রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমন কম, সেচ খরচ কম হওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক কমে যায়। বিশেষ করে শীত ও বর্ষা মৌসূমে এই পদ্ধতিতে আবাদ করে কৃষকদের যেমন উৎপাদন খরচ কমে আসে তেমনি কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়।

মালচিং পদ্ধতিতে শুরুতে একসাথে কিছুটা খরচ বেশি হলেও পরে খরচ কমে যায়। এ পদ্ধতিতে জমিতে আগাছা হয় না। ফলে কৃষকদের আগাছা পরিষ্কারের ঝামেলাও নেই। চাষাবাদের শুরুতে সার দেয়ার প্রয়োজন হলেও ফসল তোলার পূর্বে আর সার দিতে হয় না। সেচ দেয়ার প্রয়োজন হলে শুধুমাত্র গাছের গোড়ায় সেচ দিলেই হয়। ফলে কৃষকদের খরচ ও ঝামেলা কম হয়। গাছও দীর্ঘদিন বেঁচে থেকে ও ফলন দেয়।
কৃষকরা জানান, এ পদ্ধতিতে জমি তৈরির জন্য মাঝখানে দুই পাশ থেকে কেটে দেড় ফুট চওড়া করে ও ৮-১২ ইঞ্চি পরিমাণ উঁচু করে মাটির সাথে সার মিশিয়ে বেড তৈরি করা হয়। তৈরি বেডগুলো মালচিং পেপার দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। মালচিং পেপারের কালো রঙের দিকটা থাকে নিচের দিকে আর রুপালি রঙের দিকটা থাকে ওপরের দিকে অর্থাৎ সূর্যের দিকে। এ পদ্ধতিতে সূর্যের আলো ও তাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে মাটিকে রাখে ফসলের উপযোগী। পরে মালচিং পেপারের দুই পাশে নির্দিষ্ট দূরত্বে গোল গোল করে কেটে নেয়া হয়। এরপর কেটে নেয়া জায়গায় রোপণ করা হয় বীজ বা চারা। পরে তিন ফুট উঁচুতে বাঁশ ও সুতা দিয়ে তৈরি করা হয় মাচা। এ পদ্ধতিতে প্রতি বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করতে খরচ হয় প্রায় এক লাখ টাকা আর এক বিঘায় উৎপাদিত মরিচ বাজারে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে।
পঞ্চগড়ে এমন একজন কৃষক সারোয়ার হোসেন। জেলা শহরে রয়েছে তার বীজ, সার ও কীটনাশকের দোকান। ব্যবসায়ী হলেও তিনি একজন সফল কৃষক। বিভিন্ন ধরণের লাভজনক ফসল আবাদে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন। এবার পঞ্চগড় জেলা সদরের চানপাড়া গ্রামে তালমা নদীর পাড়ে তিনি মালচিং পদ্ধতিতে মরিচ চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে তার মরিচ ক্ষেতে ফুল ধরেছে। কিছুদিনের মধ্যে ফল আসবে। সারোয়ার জানান, এবার তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ২০ শতক জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে মরিচ চাষ করেছেন। এ পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকার মত। সামনে আর বেশি খরচ নেই। সপ্তাহে একদিন কীটনাশক স্প্রে করলেই হবে। তার আশা এই জমি থেকে তিনি লক্ষাধিক টাকার কাঁচা মরিচ বিক্রি করতে পারবেন। তিনি জানান, এবার তিনি সফল হলে এই পদ্ধতিতে আগামীতে আরও বড় পরিধিতে মরিচ চাষ করবেন।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আসাদুন্নবী জানান, এ উপজেলার কৃষকরা এখন মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে ভালো সফলতা অর্জন করছেন। এই পদ্ধতিতে মরিচ, বেগুন, টমেটো, লাউ ইত্যাদি সবজি আবাদ করে কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। চলতি মৌসূমে এ উপজেলায় পাঁচ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ করা হয়েছে। বিশেষ করে খরিপ-১ ও খরিপ-২ মৌসূমে মরিচ আবাদ করে বেশি লাভবান হচ্ছে কৃষকরা। কারণ বৃষ্টি থাকায় এই সময়টাতে নিচু এলাকার ক্ষেতের মরিচ গাছ মরে যায়। তাই বাজারেও দাম থাকে বেশ ভাল। আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের এই পদ্ধতিতে সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করছি। এ পদ্ধতি পুরো উপজেলার কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে অর্থনীতির চাকা ঘুরে দাঁড়াবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন এই কৃষিবিদ। #