# Tags

দিনাজপুরের আগাম আলু চাষে কঠিন লড়াই

আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি : আমন ধান কাটার পরপরই দিনাজপুরের হাকিমপুর হিলি ও আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষি জমিতে শুরু হয়ে গেছে আগাম জাতের আলু চাষের মহাযজ্ঞ। অ্যাস্টেরিক, কার্ডিনাল ও স্বল্পমেয়াদি শাটাল জাতের আলুর বীজ রোপণে বর্তমানে কৃষকরা দিন-রাত এক করে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শীতের আগমনী বার্তায় কৃষিজমিতে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হলেও, উৎপাদন খরচের লাগামহীন বৃদ্ধিতে কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ।
মৌসুমের শুরুতে আলুর চড়া দামের প্রত্যাশায় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। খট্টামাধবপাড়া, ইসবপুর, বোয়ালদাড়সহ বিভিন্ন এলাকার মাঠে কৃষকরা হাল চাষ, আগাছা পরিষ্কার, সার প্রয়োগ, বেড তৈরি এবং হিমাগার থেকে আনা বীজ রোপণে ব্যস্ত।

ইসবপুরের কৃষক আজগার আলী জানান, আগাম তোলা আলু বাজারে বেশি দামে বিক্রি করা যায় বলেই অ্যাস্টেরিক, কার্ডিনাল ও শাটাল জাতের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। এসব আলুর প্রতি বিঘায় ৪০ থেকে ৫০ মণ পর্যন্ত উৎপাদন হয়, যা ভালো বাজার পেলে যথেষ্ট লাভজনক।

আলু রোপণ মৌসুমে স্থানীয় শ্রমিকদের ব্যস্ততা ও রোজগারও বেড়েছে। শ্রমিকরা এই সময়কার বাড়তি আয়ে পরিবার নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারছেন।

উৎসাহের বিপরীতে কৃষকদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে উৎপাদন খরচ। কৃষক আব্দুল্লাহ’র কথায়, “খরচ ভয়ানক বেড়ে গেছে। এক বিঘা জমিতে ৪০ হাজার টাকার কমে আর আলু তোলা যায় না।”

মাধবপাড়ার কৃষক আইনুল বলেন, “বীজ আলুর দাম কম থাকায় প্রথমে একটু স্বস্তি পেয়েছিলাম। কিন্তু সার আর কীটনাশকের সঙ্কট আমাদের সব হিসাব পাল্টে দিয়েছে।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বাজারে আলুর দাম কম থাকলে লোকসান ছাড়া কিছুই জুটবে না।

কৃষক আইনুল আরও বলেন, বাজারে আলুর দাম এখনো কম। যদি ভারতসহ বিদেশে রপ্তানির সুযোগ থাকতো, তবে কৃষকদের হাত ভালোমত শক্ত হতো।

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম জানিয়েছেন, কৃষকদের আগাম আলু চাষে সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় তিনি ভালো ফলন ও দামের আশা করছেন।

চলতি বছরে হাকিমপুর উপজেলায় ১ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে আগাম আলুর বীজ রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।
এ অবস্থায়, হিলির কৃষকরা একদিকে যেমন আগাম আলু চাষের মাধ্যমে বাড়তি লাভের স্বপ্ন দেখছেন, তেমনি অন্যদিকে সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের বাড়তি দামের কারণে লোকসানের শঙ্কায় ভুগছেন। এখন দেখার বিষয়, শীতের শুভ্র দিনে আলুর বাম্পার ফলন এবং বাজারের চড়া দাম তাদের স্বপ্ন পূরণ করে, নাকি খরচের বোঝা তাদের পিছু টেনে ধরে।